সালমান শাহ হত্যা মামলা: প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছালো

নিজস্ব প্রতিবেদক::

 

চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। এ কারণে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত নতুন দিন নির্ধারণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।

মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনরায় সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২০ মে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা। এর দুই দিন পর, ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।

পরে মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন। এরপর গত ২২ জুন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য আদালত তখন সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। পরে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে সালমান শাহর মামা দাবি করেছেন, মৃত্যুর দিন পরিবারের সদস্যরা নিউ ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগে সালমান শাহর শরীরে দড়ির দাগ এবং কিছু নীলচে দাগ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।