লাইভে এসে তরুণী বললেন, অপহরণ নয়, ছাত্রদল নেতাকে ভালোবেসে ঘর ছেড়েছেন

জেলা প্রতিনিধি::

 

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠার পর ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ওই তরুণী। তার দাবি, তাকে অপহরণ করা হয়নি; বরং নিজের ইচ্ছায় ছাত্রদল নেতা রিজভীর সঙ্গে ঘর ছেড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হয়রানি না করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে কলেজছাত্রী ও ছাত্রদল নেতা রিজভী এসব কথা বলেন।

লাইভে রিজভী বলেন, গত দুই দিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই তারা ভালোবেসে বিয়ে করেন। দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তার স্ত্রীর বয়স সাড়ে ১৯ বছর।

এ সময় কলেজছাত্রী বলেন, তাদের সম্পর্ক ছিল প্রায় দুই বছরের। ২২ জুলাই বিয়ের পর পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাকে রেখে স্বামীকে চলে যেতে বলা হয়। কিছুদিন পর তিনি নিজেই আবার স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন।

ওই তরুণীর দাবি, এরপর পরিবার আবারও তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি আবার স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন।

কলেজছাত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে অপহরণ করে আনেনি। আমি নিজের ইচ্ছায়, ভালোবেসে তার সঙ্গে এসেছি। এখানে অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার শ্বশুরবাড়ির সদস্য ও স্বামীকে যেন হয়রানি করা না হয়। কলেজে যাতায়াতের পথে স্বামী তাকে উত্ত্যক্ত করতেন—এমন অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এসব তথ্যকে তিনি মিথ্যা ও গুজব বলে দাবি করেন।

এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রীপুরে ওই কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এ ঘটনায় পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রিজভী, তার বাবা মনির হোসেন ও মা নিলুফা আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে কলেজে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে রিজভীকে বহিষ্কার করে গাজীপুর জেলা ছাত্রদল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন রিজভী ও ওই কলেজছাত্রী।