রাউজানে ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের গুলি, নিহত যুবদল কর্মী 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ::

চট্টগ্রামের রাউজানে ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার নাছির উদ্দীন (৫৫) নামের এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিনগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই এ ঘটনা ঘটে।

 

এর আগে গত শুক্রবার একই উপজেলায় কাউসার উর জামান বাবলু নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে রাউজানজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

নিহত নাছির উদ্দীন উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত দুদু মিয়ার ছেলে। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাতে বাড়ির পাশ থেকে গুলির শব্দ শুনে ছুটে যান আশপাশের লোকজন। পরে নাছিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত নাসিরকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউজান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

 

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় মাটি কাটা, পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

 

স্থানীয় কয়েকজন জানান, নাছির উদ্দীনের সঙ্গে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম নামে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

 

পুলিশ জানায়, নিহত নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। কয়েক মাস আগেও দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।

 

এর আগে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামে এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাউজানে সহিংসতা বেড়েছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের ঘটনা বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।