আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও তার দুই পা-ই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য বর্তমানে বেঁচে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের নির্বাচনি কার্যালয়ের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। উত্তর-পূর্ব মেলবোর্নের ইন্ডি আসনের সংসদ সদস্য হেলেনকে পরিকল্পিতভাবে গাড়িচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রেন্ডন নুজেন্ট নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বুধবার হেলেনের স্বামী ফিল হেইনস জানান, চিকিৎসকেরা তার স্ত্রীর ডান পা বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেটিও কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে হেলেনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত নুজেন্টকে আটক করেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নেন। এ সময় তার কাছে একটি ছুরি ছিল বলেও দাবি করেছেন তারা।
৪৩ বছর বয়সী নুজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার টারাউইনগি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবেশকর্মী এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে একজন ফেডারেল সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের দায়ে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা এবং গাঁজা চাষ ও সংরক্ষণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি জামিনের আবেদন করেননি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
তবে হেলেনকে কেন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার ওপর হামলার বিষয়ে আগাম কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত চলমান থাকায় হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তারা।
হেলেন হেইনস ২০২২ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনে ইন্ডি আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হন। গ্রামীণ অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে তিনি বরাবরই সোচ্চার ছিলেন।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের নিন্দা জানাতে অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গাজায় প্রাণহানি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নুজেন্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেলেনের বিভিন্ন অবস্থানের প্রশংসা করেছিলেন। তাকে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে পোস্ট শেয়ার করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়েও সরব ছিলেন তিনি।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার সমালোচনা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে নুজেন্ট লিখেছিলেন, রাফায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ইসরায়েলকে কূটনৈতিক সমর্থন ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়ী।
তবে হেলেনের প্রতি নুজেন্টের পূর্ববর্তী সমর্থন কিংবা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের সঙ্গে এই হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।




