স্পোর্টস ডেস্ক::
লিওনেল মেসির বিদায়ের রাতটিই ছিল আবেগে ভরা। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো বক্তব্য দেওয়ার পর মাঠের মাঝখানে বড় ছেলে থিয়াগোকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তটি ছাপিয়ে যায় সবকিছুকে। বাবা-ছেলের সেই আবেগঘন দৃশ্যে যেন কিছুক্ষণের জন্য নীরব হয়ে যায় পুরো মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম।
৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল স্টেডিয়াম। গ্যালারিতে তখন বিদায়ের আবেগ, প্রিয় অধিনায়ককে শেষবারের মতো দেখার আকাঙ্ক্ষা এবং স্মৃতির ভার। মেসি নিজের প্রায় নয় মিনিটের বক্তব্য শেষ করার পর মঞ্চে ওঠে গ্রুপো কালি। গান ও আয়োজনের মধ্যেই ঘটে রাতের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি।
মাঠের মাঝখানে বাবাকে দেখেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি থিয়াগো। কাঁদতে কাঁদতে ছুটে গিয়ে মেসিকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। ছেলেকে দুই হাতে আগলে নেন মেসিও। যে মাঠে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার গোল উদ্যাপন করেছেন, বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন, আনন্দে কেঁদেছেন—সেই মাঠেই এবার বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে দেখা গেল থিয়াগোকে।
কিছুক্ষণ পর তাদের সঙ্গে যোগ দেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। স্বামী ও ছেলেকে জড়িয়ে ধরে তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি। পরে পরিবারের অন্য দুই সন্তান মাতেও ও সিরোও এসে এই আবেগঘন মুহূর্তের অংশ হয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ আগেই মেসি জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে না ফেরার বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। পরিবারের সঙ্গে তার সেই মুহূর্ত যেন কথাটিরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল।
বিদায়ী বক্তব্যে মেসি প্রথমেই স্মরণ করেন তার বাবা হোর্হে মেসিকে, যিনি ৮ আগস্ট মারা গেছেন। এরপর আর্জেন্টিনার জার্সিতে কাটানো ২১ বছরের দীর্ঘ যাত্রার নানা অধ্যায় তুলে ধরেন। কঠিন সময় পেরিয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের স্মৃতিও উঠে আসে তার কথায়।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবেগ সামলাতে পারেননি মেসি নিজেও। তিনি জানান, মাঠ ছাড়তে তার মন চাইছে না। জাতীয় দলের জার্সিকে মিস করার কথা বলতে গিয়ে এই দিনটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিষণ্ন সময়গুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেন।
মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আলো, দর্শকদের করতালি আর গ্রুপো কালির গানের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন মেসি। গ্যালারিতে তখনো চলছিল উচ্ছ্বাস। তবে সেই রাতের সবচেয়ে গভীর স্মৃতি হয়ে রইল কোনো গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফি নয়—বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকা থিয়াগোর আবেগঘন মুহূর্ত।





