বিএনপি ক্ষমতাকে নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখে: নজরুল ইসলাম খান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক::

 

জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও বিএনপি এটিকে ক্ষমতা হিসেবে দেখে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, জনগণের প্রয়োজন পূরণ, তাদের দুর্ভোগ লাঘব এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকট ও দুঃসময়ে বিএনপি জনগণের পাশে থেকেছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলটি ভূমিকা রেখেছে। জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিএনপিকে সমর্থন ও সম্মান জানিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে এরশাদ সামরিক শাসন জারি করলে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৯০-৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। এরপর দলটি বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

‘ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব’

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ আবারও বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। জনগণের সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা ক্ষমতা নয়, এটা দায়িত্ব। বিএনপি ক্ষমতা মনে করে না, দায়িত্ব মনে করে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি যখন সংকটে পড়েছে, তখন জনগণের স্বার্থে তা পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের দায়িত্ব বিএনপি পালন করেছে। বর্তমান সরকারও অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান

দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী দলগুলোর প্রতি গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো সরকারি কর্মসূচির সমালোচনা করলে এর পাশাপাশি আরও কার্যকর বিকল্প পরিকল্পনাও তুলে ধরা উচিত। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে কোনো সুফল পাওয়া যায় না।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ। কোনো কর্মসূচিতে ভুল বা দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি আরও ভালো পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনগণের কল্যাণই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সব কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের কল্যাণ। জনগণের জীবনমানের উন্নতি ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা না গেলে রাজনৈতিক দল, সরকার কিংবা বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেরও প্রকৃত অর্থ থাকে না।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের দুর্ভোগ কমানো সহজ কাজ নয়। এ জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের আরও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড, বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সন্ত্রাস, অপরাধ ও দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় থাকার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।