নিজস্ব প্রতিবেদক::
প্রাথমিক স্তরের নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের শোনা (লিসেনিং) ও কথা বলার (স্পিকিং) দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পিটিআইয়ে ‘বাংলাদেশ টিএমটিই (ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেইনার্স ইন ইংলিশ) সদস্য সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ভাষা শিক্ষার চারটি মৌলিক দক্ষতা—শুনে বোঝা, বলে প্রকাশ করা, পড়ে বোঝা এবং লিখে প্রকাশ করা—সমান গুরুত্বের সঙ্গে শেখাতে হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ‘শুনে বোঝার’ দক্ষতা গড়ে তোলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইংরেজি ভাষায় বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান রয়েছে। তাই এসব জ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ গড়ে ওঠে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারে এবং বিশ্বজ্ঞান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষাদান যথেষ্ট নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ভিডিও, ওয়ার্কবুক, ডিজিটাল কনটেন্ট, খেলাধুলা ও অন্যান্য আধুনিক শিখন উপকরণ কার্যকরভাবে ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই। তবে সেই পরিবর্তন হতে হবে সুনির্দিষ্ট, বাস্তবভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর। আপনারা কী চান, তা স্পষ্টভাবে বলুন। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা সবার অধিকার এবং তা সবার দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা হতে হবে দক্ষতাভিত্তিক, ক্যারিয়ারমুখী ও নৈতিকতাসম্পন্ন।
টিএমটিই বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রিয়াজ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপ-পরিচালক মারিয়া রেহমান।





