ইরানের পাশে দাঁড়াল রাশিয়া: লেনদেন, শ্রম-কর্মসংস্থান নিয়ে একাধিক চুক্তি

মার্কিন অর্থযুদ্ধ

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

 

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে শুরু হওয়া ওই অভিযান ইতোমধ্যে সাত মাসে গড়িয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও গত মাসে আবারও কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

 

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। তেহরানের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি, আর্থিক লেনদেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে বেশ কয়েকটি নতুন সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে মস্কো।

 

মস্কো সফরে গিয়ে ইরানের অর্থমন্ত্রী সায়েদ আলী মাদানিজাদেহ এসব তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি।

ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ জানান, বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কিছু সমঝোতায়ও পৌঁছেছে দুই দেশ। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে, যাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করা যায়।

 

মাদানিজাদেহ বলেন, অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও সম্প্রসারিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ইরানের অর্থনীতিকে সংকুচিত করা এবং দেশটিতে পণ্য প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহপথ তৈরি করা হলে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ইরানের কোনো সংকট নেই। শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিকল্প পথ তৈরি ও সক্রিয় করা হয়েছে।

 

ইরানের অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমানোর পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।