২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিল ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক ::

দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০০২ সালের পর প্রথমবার নকআউটে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে ব্রাজিল।

জাপানের বিপক্ষে এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে ব্রাজিল। সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো সমতায় ফেরান দলকে। এরপর ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেও হারের মুখ দেখতে হলো জাপানকে। ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ হলো এশিয়ার দলটির।

যোগ করা সময়ে (৯৬তম মিনিটে) মার্তিনেল্লির গোলে জয় তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। আর এতেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হলো সেলেসাওদের।

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন জাপানের কাইশু সানো, এরপর ব্রাজিল শোধ দিতে না পারায় এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গেল জাপান।

জাপানের জার্সিতে এটিই ছিল সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। ক্যারিয়ারে মনে রাখার মতো একটি বিশেষ ম্যাচেই দারুণ গোলটি আদায় করলেন তিনি।

কাসেমিরোর গোলে দারুণ কামব্যাক দিয়েছে ব্রাজিল। ৭০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র ছিল। দুই দলই আক্রমণ-পালটা আক্রমণ চালিয়েছে।

যোগ করা সময়ে ৯৫তম মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয়ের দুয়ারে পৌছে ব্রাজিল।

 

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সর্বশেষ নকআউট প্রত্যাবর্তনের গল্পটি ছিল ২০০২ সালের আসরে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাইকেল ওয়েনের গোলে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির ঠিক আগে রিভালদো সমতা ফেরান। এরপর রোনালদিনিওর অবিস্মরণীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল ব্রাজিল।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রতিপক্ষের আগে গোল করার পরও ব্রাজিল এখন পর্যন্ত ১৫টি ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছে। এর মধ্যে সাতটি জয় এসেছে গ্রুপ পর্বে। বাকি জয়গুলো নকআউট কিংবা পরবর্তী ধাপে, যদিও ১৯৩৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও সেই তালিকায় রয়েছে। ফলে সরাসরি নকআউটে কিংবা শিরোপার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা সংখ্যায় কম হলেও সেগুলো ব্রাজিলের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার মধ্যে দুটি এসেছে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেন শুরুতেই এগিয়ে গেলেও ভাভা, পেলে ও জাগালোর গোলে ৫-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। চার বছর পর ১৯৬২ সালের ফাইনালেও একই চিত্র দেখা যায়। চেকোস্লোভাকিয়া প্রথমে লিড নিলেও আমারিল্ডো, জিতো ও ভাভার গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে সেলেসাওরা।

প্রত্যাবর্তনের ইতিহাসে ব্রাজিলের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৩৮ বিশ্বকাপেই। সে আসরে চেকোস্লোভাকিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছিল তারা। পরে ১৯৭০ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়া ও উরুগুয়ের বিপক্ষেও একইভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে গোল হজম করেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জিকো-সক্রেটিসদের দল।

তবে ২০০২ সালের পর নকআউট পর্বে প্রথম গোল হজম করলে আর ভাগ্য সহায় হয়নি ব্রাজিলের। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। যদিও এই সময়ে গ্রুপ পর্বে ২০০৬ সালে জাপান এবং ২০১৪ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছিল সেলেসাওরা।