স্পোর্টস ডেস্ক ::
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের সহজ জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে এই জয়ের আনন্দ ঢাকা পড়েছে ইনজুরি অপয়া ছায়ায়।
ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্কোয়াডের অন্য খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা তারা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে আরও বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আগামী বুধবার আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আলবিসেলেস্তেদের হেড কোচ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে হন্ডুরাসকে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন লিওনেল স্কালোনি। পেশীর ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বালের্দি দল থেকে ছিটকে গেলেও তার বিকল্প কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত করেননি কোচ।
বরং সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক খেলোয়াড় এখনো শতভাগ ফিট নন। তাই এই সিদ্ধান্ত কেবল একজন সেন্টার ব্যাকের ওপর নির্ভর করছে না।
আমাদের সামনে আরও একটি ম্যাচ (আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে) আছে এবং সেটি দেখেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসব। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমাদের আরও অনেক সতীর্থের অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। মঙ্গলবার সবাইকে পরখ না করে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না।’
আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পরেই কোচিং স্টাফরা খেলোয়াড় ছাঁটাই বা পরিবর্তনের মূল সিদ্ধান্ত নেবেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কালোনির জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, নাহুয়েল মোলিনা এবং লেয়ান্দ্রো পারেদেস। হন্ডুরাস ম্যাচের বেঞ্চেও এই তিন তারকা ছিলেন না।
মন্তিয়েল ও মোলিনা দুজনেই ভুগছেন পেশীর সমস্যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তারা দুজনেই একই পজিশনের (রাইট-ব্যাক) জন্য লড়াই করেন। এই কারণেই ব্যাক-আপ হিসেবে প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে অগাস্তিন গিয়াই (যিনি কাল শুরুর একাদশে ছিলেন) এবং নিকোলাস কাপালদোকে ডেকেছেন স্কালোনি। অন্যদিকে বোকা জুনিয়র্সের মিডফিল্ডার পারেদেসের পেশীতে মৃদু ‘টিয়ার’ রয়েছে। তিনি এখনো স্বাভাবিক অনুশীলন শুরু করতে পারেননি, তাই তার সুস্থ হয়ে ওঠা দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
স্কোয়াডের বাইরে থাকা অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে হুলিয়ান আলভারেসের গোড়ালিতে কিছুটা ফোলা ভাব থাকলেও তা বিশ্বকাপে খেলায় বাধা হবে না। ডানহাতের অনামিকা আঙুলে ফ্র্যাকচার থাকা সত্ত্বেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে মৌসুমের শেষ ম্যাচে বাঁ-পায়ে চোট পাওয়া নিকো পাজ আজ থেকেই দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন।
বালের্দির দল থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্কালোনি। যুব দল (অনূর্ধ্ব-২০) থেকে ব্যালের্দিকে চেনা কোচ বলেন, ‘গতকাল সংবাদ সম্মেলনেও আশা করেছিলাম চোটটা যেন গুরুতর না হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেল যে তার পেশীতে সমস্যা রয়েছে। গ্রুপ পর্বে সাহায্য করার মতো ন্যূনতম ফিটনেসও তার নেই, তাই তাকে বাদ দিতেই হচ্ছে। এটা বড্ড ঝুঁকিপূর্ণ হতো। বুকভরা কষ্ট নিয়ে তাকে জানাতে হয়েছে যে সে বিশ্বকাপে থাকছে না। ওর জন্য ম্যাচটিতে মনোযোগ দেওয়া আমাদের সবার জন্যই কঠিন ছিল।’
তবে চোটের অস্বস্তির মাঝেও ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি ইতিবাচক ছিল। একটি ভালো দলের বিপক্ষে আমরা জিতেছি। আমি খুশি কারণ সবাইকে খেলার সুযোগ দিতে পেরেছি। নিকো পাজ এখনই খেলার জন্য প্রস্তুত। আর হুলিয়ানের গোড়ালির সমস্যা দূর করার চেষ্টা করছি, তবে আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’
ম্যাচের শেষাংশে সিনিয়র দলের জার্সিতে অভিষেক হওয়া তিন তরুণ সান্তিয়াগো বেলত্রান, হোয়াকিন ফ্রেইতাস এবং তমাস আরান্দার ভূয়সী প্রশংসা করেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।
বিশেষ করে আরান্দার আত্মবিশ্বাস দেখে মুগ্ধ স্কালোনি মজার ছলে বলেন, ‘আরান্দার মধ্যে দারুণ এক স্ট্রিট স্মার্টনেস আছে, ও বল পায়ে রাখতে চায়। আপনারা খেয়াল করেছেন কি না জানি না, ও মাঠে চুইংগাম চিবোতে চিবোতে এমনভাবে নেমেছিল যেন নিজের বাড়িতে খেলছে! আমি ওকে চুইংগাম ফেলে দিতে বলেছিলাম, কারণ ও অনুশীলনেও চুইংগাম চিবোয়। ও এতটাই নির্ভার ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে যে ও আসলেই একজন দারুণ খেলোয়াড়।’
দুঃখ প্রকাশ করে কোচ আরও জানান, কেবল সাবস্টিটিউশন শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি ওভান্দোকে মাঠে নামাতে পারেননি।





