নিজস্ব প্রতিবেদক::
রংপুর জেলা তথ্য বাতায়নের অন্তর্ভুক্ত ১১৫টি সরকারি অফিসের মধ্যে মাত্র ১৪টির ওয়েবসাইটে শতভাগ তথ্য হালনাগাদ রয়েছে। ৩৩টি অফিসে ৮৬ শতাংশ, ৩২টিতে ৭১ শতাংশ, ২২টিতে ৫৭ শতাংশ, ১২টিতে ৫০ শতাংশ তথ্য হালনাগাদ রয়েছে। এছাড়া তিনটি অফিসের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্যের কার্যক্রম একেবারেই নিষ্ক্রিয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগিতায় রংপুর জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।
টিআইবি গত ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুর জেলার ১১৫টি সরকারি অফিসের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে তথ্য হালনাগাদের এ চিত্র তুলে ধরে। পর্যবেক্ষণে নোটিশ বোর্ড, অফিসপ্রধানের তথ্য, সিটিজেন চার্টার, যোগাযোগ, খবর, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা (ডিও)–সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর ৬৮ শতাংশে নোটিশ বোর্ড হালনাগাদ ছিল। চলতি বছর তা ১৫ শতাংশ কমে ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে খবরের তথ্য হালনাগাদের হার ২২ শতাংশ থেকে কমে ১৭ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে অফিসপ্রধানের তথ্য হালনাগাদের হার ১৬ শতাংশ বেড়ে ১০৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য গত বছরের মতোই ১০৯ শতাংশ রয়েছে। সিটিজেন চার্টারের তথ্য হালনাগাদের হার ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০১ শতাংশ।
তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার (ডিও) তথ্য হালনাগাদের হার ১৯ শতাংশ বেড়ে ৭৮ শতাংশ এবং যোগাযোগের তথ্য ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০২ শতাংশ হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, অনেক কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসের ওয়েবসাইটে তাদের তথ্য রয়ে গেছে। এছাড়া অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকায় ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ নেই।
সরকারি সেবা খাতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন, তথ্যের ঘাটতি ও অনিয়ম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ নিশ্চিত করা এ পর্যবেক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে জনগণের তথ্য জানার অধিকার সহজতর করে দুর্নীতি কমানো ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, রাষ্ট্র বা সমাজব্যবস্থার একক সমস্যা নয়। বাংলাদেশেও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা নতুন নয়।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতা ও এর অপব্যবহারের কারণে অপতথ্যের বিস্তার মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বস্তুনিষ্ঠ, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি ও কৌশল প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রমিজ আলম, টিআইবি রংপুরের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আলমগীর কবির, রংপুর জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার শাহজাহান আলী এবং সনাক রংপুরের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট দিলরুবা জামান বক্তব্য দেন।





