বগুড়ার উন্নয়নে কোনো ছাড় নয়, এআই প্রশিক্ষণে দক্ষ জনশক্তি গড়ার ওপর জোর: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক::

 

বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে বগুড়া শহরের মম ইন অডিটোরিয়ামে তথ্যপ্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে প্রত্যাশিত সংখ্যক হাইটেক পার্ক গড়ে ওঠেনি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো তৈরি করে তরুণদের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের আগামী দেড় বছরে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন যুবক-যুবতীকে আইটি ও এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে কালিয়াকৈরের হাইটেক পার্ককে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে তরুণদের জন্য উন্নত প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার অংশ। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার অবকাঠামোগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্বিতীয় যমুনা সেতু বগুড়া-মাদারগঞ্জ রুটেই নির্মাণ করা সবচেয়ে যৌক্তিক। সম্ভাব্যতা সমীক্ষাতেও এ রুটের পক্ষে মত এসেছে এবং বগুড়াবাসীরও একই দাবি রয়েছে।

শিক্ষা ও ক্রীড়া খাত নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এছাড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ ও পরিদর্শন কার্যক্রমও চলছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বগুড়ার ১২টি উপজেলায় ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।