ডেস্ক নিউজ::
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ফোর এইচ গ্রুপের হিসাব থেকে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। তার নাম মো. মহিউদ্দিন। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির ওয়াসিকপুরের এই বাসিন্দা থাকেন নগরীর হালিশহর এলাকায়। গতকাল নগরীর বহদ্দারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ আজাদীকে বলেন, গ্রেপ্তার মহিউদ্দিন মামলার এজহারভুক্ত আসামি নন। তার নাম তদন্তে এসেছে। ফোর এইচ গ্রুপের একাউন্ট থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে সরাসরি ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা নিজ ব্যাংক হিসেবে গ্রহণ করে স্থানান্তর করেছেন তিনি।
এদিকে গ্রেপ্তার পরবর্তী একইদিন চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হয় মহিউদ্দিনকে শুনানি শেষে বিচারক হাসানুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদক পিপি মোকাররম হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতসূত্র জানায়, জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ফোর এইচ গ্রুপের হিসাব থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিটি ব্যাংকের সিনিয়র এক কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা দায়ের করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হামেদ রেজা। মামলার আসামিরা হলেন ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখার সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ব্যাংকটির কর্মচারী তাহমিনা আফরোজ, শ্যালক শিহাব বিন সোহেল ও মো. মোশারফ মিয়া নামের অপর একজন।
মামলার এজহারে বলা হয়, সাইফুল ইসলাম নগরীর আগ্রাবাদে থাকা সিটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ কর্পোরেট এবং ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং ডিভিশনের সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তার উপর অর্পিত ব্যাংকিং দায়িত্ব ও আস্থার অপব্যবহার করে ফোর এইচ গ্রুপের হিসাব থেকে বিনা সম্মতিতে অপর আসামিদের সহায়তায় জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আরটিজিএস কিংবা ট্রান্সফারের মাধ্যমে আনুমানিক ১১ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
প্রাথমিক তদন্তে আরো তথ্য উঠে আসার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ফোর এইচ গ্রুপের মালিকানাধীন ফোর এইচ ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট এবং চার্ম ফ্যাশনের অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকের কোনো প্রকার নির্দেশনা ছাড়াই আসামি মো. মোশারফ মিয়ার নিজ নামীয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে রক্ষিত হিসাবে ও সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আসামি তাহমিনা আফরোজের সিটি ব্যাংকে রক্ষিত নিজ নামীয় হিসাবে এবং সাইফুল ইসলামের শালা আসামি শিহাব বিন সোহেলের মালিকানাধীন এসবিএস এন্টারপ্রাইজের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রান্সফার করে উক্ত টাকা আত্মসাৎ করা হয়।





